তোলাবাজি করলেই সোজা জেল, সাংসদ-বিধায়কদেরও রেয়াত না করার কড়া বার্তা শমীকের – এবেলা

তোলাবাজি করলেই সোজা জেল, সাংসদ-বিধায়কদেরও রেয়াত না করার কড়া বার্তা শমীকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবার তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বণিকসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনও রকম তোলা আদায় বা জুলুমবাজি বরদাস্ত করা হবে না। এই অপরাধে যুক্ত থাকলে দলের নিজস্ব সাংসদ কিংবা বিধায়কদেরও কোনও ছাড় দেওয়া হবে না, অপরাধীর সোজা জায়গা হবে জেলখানায়। ৪ তারিখ দুপুর থেকেই রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটেছে বলে তিনি জোরালো দাবি করেন।

শিল্পের স্বার্থে কড়া দাওয়াই ও নীতি বদল

রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের পথ সুগম করতে সরকার যে কতটা মরিয়া, তা স্পষ্ট হয়েছে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে। অতীতে টাটাদের সঙ্গে ঘটা অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে শিল্প মহলে বাংলার যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত মুছে ফেলতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। কারখানার গেটে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে কোনও রকম জোরপূর্বক আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হলে, সরাসরি রাজ্য দপ্তরে অভিযোগ জানানোর জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বিজেপির এমন কোনও শ্রমিক ইউনিয়ন নেই যা শিল্পের পরিবেশ নষ্ট করবে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে রাজ্যে একটি নতুন এবং কার্যকর জমি নীতি তৈরি করা হচ্ছে, যার জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন ও জমির ঊর্ধ্বসীমা পরিবর্তন করা হবে। এর পাশাপাশি শিল্প ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও জমিতে ভরতুকি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ‘সেজ’ (SEZ)-এর ওপর থাকা অলিখিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বর্তমান সরকার।

ভাতা নয়, লক্ষ্য এবার ভারী শিল্প ও কর্মসংস্থান

শুধুমাত্র সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করে সাধারণ মানুষের স্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করে বর্তমান প্রশাসন। স্বনির্ভরতার জন্য প্রকৃত কর্মসংস্থান প্রয়োজন, যা একমাত্র ভারী শিল্পায়নের মাধ্যমেই সম্ভব। এই লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ সংক্রান্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে রাজ্যে বড় মাপের বস্ত্রশিল্পের বিনিয়োগ আসতে চলেছে, যা কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস রাজ্যকে পুনরায় শিল্পায়নের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *