ব্রিগেডের মঞ্চে চাঁদের হাট আর কালীঘাটে শুধুই শূন্যতা, টলিপাড়ায় কি তবে ভোলবদলের নতুন মরসুম?

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল টলিউডের অন্দরে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে এক ডাকে সাড়া দিতেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই তাঁদের বড় অংশকেই আর তৃণমূলের মঞ্চে দেখা যাচ্ছে না। ৯ মে কলকাতার বুকে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী ছবি ধরা পড়ল। একদিকে যখন ব্রিগেডে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জিৎ-প্রসেনজিতের মতো মহাতারকাদের উপস্থিতিতে চাঁদের হাট বসেছিল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে আয়োজিত রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠান ছিল কার্যত তারকা-শূন্য।
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সঙ্গীদের হঠাৎ অনুপস্থিতি
এক সময় তৃণমূলের প্রচারে বা সরকারি অনুষ্ঠানে যে তারকাদের প্রথম সারিতে দেখা যেত, তাঁদের এই হঠাৎ দূরত্ব তৈরি করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রবীন্দ্রজয়ন্তীর এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে একমাত্র সুভদ্রা মুখোপাধ্যায় ছাড়া পরিচিত কোনো তারকাকে দেখা যায়নি। রূপঙ্কর বাগচী, নচিকেতা চক্রবর্তী থেকে শুরু করে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বা জুন মালিয়ার মতো এক সময়ের আস্থাভাজন মুখগুলোর অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের নেতাদের মধ্যে বাবুল সুপ্রিয়, কুণাল ঘোষ বা অর্পিতা ঘোষরা থাকলেও বিনোদন দুনিয়ার চেনা জৌলুস ছিল না বললেই চলে।
অসুস্থতা না কি ক্ষমতার পালাবদলে কৌশলগত দূরত্ব?
তারকাদের এই অনুপস্থিতির কারণ খুঁজতে গেলে বিচিত্র সব তথ্য সামনে আসছে। প্রখ্যাত গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী যেমন শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন, তেমনই অনেকে অস্ত্রোপচার বা শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গণ-অনুপস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে ক্ষমতার পটপরিবর্তন। দীর্ঘ দেড় দশক শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকার পর, এখন সরকার বদলে যাওয়ার ফলে শিল্পীদের আনুগত্যের মানচিত্রেও বড়সড় বদল দেখা যাচ্ছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে টলিপাড়ায় তৃণমূলের একক সাংস্কৃতিক আধিপত্যের অবসান ঘটতে পারে এবং শিল্পীদের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ আসলে নতুন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
