মদ আর পর্নোগ্রাফির নেশায় ১২ বছরের নাবালকই ছিঁড়ে খেল ৯ মাসের শিশুকে! – এবেলা

মদ আর পর্নোগ্রাফির নেশায় ১২ বছরের নাবালকই ছিঁড়ে খেল ৯ মাসের শিশুকে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশে সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম ও নৃশংস নিদর্শন প্রকাশ্যে এসেছে। খোদ যোগী রাজ্যে মায়ের পাশে ঘুমিয়ে থাকা মাত্র ৯ মাসের এক শিশুকন্যাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ১২ বছরের এক নাবালকের বিরুদ্ধে। গুলা রিহা থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক ঘটনাটি খোদ তদন্তকারী আধিকারিকদেরও স্তম্ভিত করে দিয়েছে। অভিযুক্ত নাবালককে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

বিকৃত মানসিকতার নেপথ্যে প্রযুক্তির অপব্যবহার

পুলিশি জেরায় ধৃত নাবালক স্বীকার করেছে যে, শুক্রবার রাতে সে প্রথমে মদ্যপান করে এবং এরপর নিজের মোবাইল ফোনে একের পর এক পর্নোগ্রাফি বা নীল ছবি দেখতে শুরু করে। মোবাইলের পর্দায় সেইসব অশ্লীল দৃশ্য দেখার পরেই তার মাথায় চরম বিকৃতি ভর করে। তীব্র যৌন লালসার বশে সে গভীর রাতে ওই ঘুমন্ত শিশুকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে চম্পট দেয়। পুলিশ ওই নাবালকের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষা করে দেখেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতের ফোনে ৫০টিরও বেশি অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও মিলেছে এবং গত কয়েকদিনে ১০০টিরও বেশি পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট সার্চ করা হয়েছিল।

অচৈতন্য অবস্থায় মাঠ থেকে উদ্ধার

নির্যাতিতা শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোজের মতোই রাতে মায়ের পাশেই ঘুমিয়েছিল শিশুটি। রাত দুটো নাগাদ আচমকাই মায়ের ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখেন পাশে সন্তান নেই। রাতেই গোটা গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এরপর শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি মাঠের মধ্যে টিনের চালার নিচে অচৈতন্য ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় শিশুটি। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা ওই শিশুকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ৯ মাসের ওই শিশুটি।

পকসো আইনে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশি সন্দেহের তির গিয়ে পড়ে শিশুটিরই এক ১২ বছর বয়সি আত্মীয়ের ওপর, যে মাত্র তিন দিন আগে চণ্ডীগড় থেকে সেখানে এসেছিল। প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও কড়া জেরার মুখে নিজের অপরাধ কবুল করে সে। গোরক্ষপুরের পুলিশ সুপার (শহর) নিমেষ পাতিল জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তার চিকিৎসা চলছে। অভিযুক্ত নাবালককে আটক করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় পকসো (POCSO) আইন সহ সংশ্লিষ্ট ধারায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাটি সমাজে অবাধ পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতার এক ভয়ঙ্কর প্রভাবকে নির্দেশ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *