মৃত্যুর পরেও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়বে মারজানে সত্রপির প্রতিবাদের ভাষা – এবেলা

মৃত্যুর পরেও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়বে মারজানে সত্রপির প্রতিবাদের ভাষা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্ববন্দিত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সোপোলিস’-এর স্রষ্টা, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ মারজানে সত্রপি প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে থেকেও তিনি নিজের শিল্পভাষার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ইরানের ধর্মতান্ত্রিক স্বৈরাচার ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর এই চিরপ্রস্থান এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এক চরম ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জাগতিক মৃত্যু হলেও সত্রপির রেখে যাওয়া সৃষ্টি ও আদর্শ আগামী দিনেও ইরানের অবদমিত জনতাকে মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রসদ জোগাবে।

বিপ্লব, নির্বাসন ও প্রতিবাদের রূপকথা

১৯৬৯ সালে ইরানের রাশতে জন্ম নেওয়া সত্রপির জীবন ও মনস্তত্ত্ব ওলটপালট হয়ে যায় ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর। মাত্র দশ বছর বয়সে চোখের সামনে জন্মভূমিকে কট্টর ধর্মীয় অনুশাসনে বন্দি হতে দেখেন তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর নারীস্বাধীনতার চরম খর্বায়নের সেই রূঢ় বাস্তবতাকে সঙ্গী করে ১৯৯৪ সালে, ২৫ বছর বয়সে তিনি ফ্রান্সে পাড়ি জমান। নির্বাসিত জীবনেই তিনি রচনা করেন তাঁর কালজয়ী আত্মজৈবনিক গ্রাফিক নভেল ‘পার্সোপোলিস’। আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের শাসনামলে কাটানো এক কিশোরীর চোখে ইরানের চালচিত্র ফুটিয়ে তোলা এই বইটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হয়। পরবর্তীতে এর সাদা-কালো অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র রূপটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি পুরস্কারও লাভ করে।

বিক্ষুব্ধ স্বদেশের ভবিষ্যৎ ও সত্রপির উত্তরাধিকার

২০২৫ সালে জীবনসঙ্গীর বিয়োগান্তক মৃত্যুর পর থেকেই গভীর বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন সত্রপি। ২০২৬ সালের জুনে এসে থামল তাঁর সেই লড়াই। বর্তমানে ইরান এক ঐতিহাসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; একদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় বিপর্যস্ত দেশ, অন্যদিকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ক্ষমতার অলিন্দে তৈরি হয়েছে শূন্যতা। এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আবহে সত্রপির প্রস্থান ইরানের নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার আন্দোলনকে সাময়িকভাবে অভিভাবকহীন করলেও, তাঁর আপসহীন মনোভাব স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে নতুন গতি দিতে পারে। আমৃত্যু ফরাসি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘লিজিয়ঁ দ’অনর’ প্রত্যাখ্যান করার মতো অনমনীয় জেদ রেখে যাওয়া এই শিল্পীই এখন ইরানের ভবিষ্যৎ মুক্তিকামী মানুষের প্রতিবাদের প্রধান প্রতীক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *