রণক্ষেত্রে সোনারপুর, বেনজির বিক্ষোভের মুখে ছিঁড়ল অভিষেকের শার্টের বোতাম! – এবেলা

রণক্ষেত্রে সোনারপুর, বেনজির বিক্ষোভের মুখে ছিঁড়ল অভিষেকের শার্টের বোতাম! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলের এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন ও মারমুখী বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রিকেটের হেলমেট মাথায় দিয়েও শেষরক্ষা হয়নি তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার। বিক্ষোভকারীদের প্রবল ধাক্কাধাক্কিতে ছিঁড়ে যায় তাঁর শার্টের বোতাম, একই সাথে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো বৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সকাল থেকেই কলকাতার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনা ছিল টানটান। বিধানসভার সই কাণ্ডের তদন্তে সকালে অভিষেকের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে যায় সিআইডি। সেই পর্ব মিটিয়ে দুপুরের দিকে তিনি সোনারপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সোনারপুরে ঢোকার মুখে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে তিনি একটি বাইকে উঠে পড়েন এবং সুরক্ষার জন্য মাথায় ক্রিকেটের হেলমেট গলিয়ে নেন। তবে বাইক থেকে নামতেই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। কালো পতাকা হাতে একদল বিক্ষোভকারী ‘গো ব্যাক’ এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। তীব্র ধস্তাধস্তির মধ্যে জামা ছেঁড়া অবস্থাতেই চারপাশের তুমুল উত্তেজনার মধ্য দিয়ে পায়ে হেঁটে এগোন ডায়মন্ড হারবারের এই সাংসদ।

হামলার নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক ক্ষোভ

এই নজিরবিহীন হামলার নেপথ্যে মূলত ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং স্থানীয় স্তরের তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভ কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ওই এলাকায় রাজনৈতিক পারদ চড়ে ছিল। একদিকে শাসক দলের নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি, অন্যদিকে বিরোধীদের সুসংগঠিত ক্ষোভ বিক্ষোভের রূপ নেয়। হামলা পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে, তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সরাসরি কলকাতা হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বলে জানান।

আইনশৃঙ্খলা ও রাজ্য রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

খোদ শাসক দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ডের ওপর এই ধরনের শারীরিক আক্রমণ ও হেনস্থার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের সমসাময়িক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরগামী প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথমত, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনারপুর তথা সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সিআইডি তদন্তের সমান্তরালে এই ধরনের প্রকাশ্য গণবিক্ষোভ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার রেশ ধরে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও সংঘাত আরও তীব্র রূপ ধারণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *