সংগ্রামের শেষ হাসি! ১২ বছরের চাকরি ছেড়ে বিএএস অফিসার, ডেন্টিস্ট হলেন এসডিএম – এবেলা

সংগ্রামের শেষ হাসি! ১২ বছরের চাকরি ছেড়ে বিএএস অফিসার, ডেন্টিস্ট হলেন এসডিএম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাটনা: বিহারের প্রশাসনিক ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। রাজধানী পাটনার ঐতিহাসিক বাপু সভাঘরে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৭০তম ‘বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ (BPSC)-এর সফল ২,০২৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলো। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর হাত থেকে কাঙ্ক্ষিত এই নিয়োগপত্র পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন সফল তরুণ-তরুণীরা। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের পর থেকেই নেটদুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন সাধারণ ও প্রান্তিক পরিবারের এসব মেধাবী সন্তানরা।

এই নিয়োগের পেছনে রয়েছে অদম্য জেদ আর দীর্ঘ সংগ্রামের নানা আবেগঘন গল্প—

  • ১৬ ঘণ্টার কঠোর তপস্যা ও কৃষকের ছেলের জয়: মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলার এক প্রান্তিক কৃষক পরিবারের সন্তান আদিত্য জৈন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে সরকারি চাকরির এই সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন তিনি। আদিত্যের মা রাজমণি জৈন আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, ছেলে দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা একনাগাড়ে পড়ালেখা করত; অনেক সময় খাওয়ার কথা পর্যন্ত ভুলে যেত। অবশেষে সেই মেহনতের ফল পেলেন আদিত্য।
  • ১২ বছরের চাকরি ছেড়ে বিএএস অফিসার: সিনেমাকেও হার মানায় নাজমণি কুমারের লড়াই। দীর্ঘ ১২ বছর বিএসএনএল-এ জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত থাকার পাশাপাশি নিজের সিভিল সার্ভিসের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। চার নম্বর চেষ্টা ও চার নম্বর ইন্টারভিউতে এসে অবশেষে স্বপ্নপূরণ হলো নাজমণির—সুযোগ পেলেন বিহার প্রশাসনিক সার্ভিসে (BAS)।
  • ডেন্টিস্ট্রি ছেড়ে প্রশাসনিক শীর্ষে কবিতা: দন্তচিকিৎসার (Dentistry) মতো পেশা ছেড়ে সিভিল সার্ভিসের কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন কবিতা কুমারী। ৬৯তম বিপিএসসিতে একেবারে শেষ মুহূর্তে বাদ পড়লেও মনোবল হারাননি। অবশেষে ৭০তম বিপিএসসিতে জয়ী হয়ে এসডিএম (SDM) পদের নিয়োগপত্র হাসিল করে নেন তিনি।

এক ছাদের নিচে একসঙ্গে দুই হাজারের বেশি তরুণের সরকারি চাকরি পাওয়ার এই মহাসমারোহ এখন গোটা দেশের অনুপ্রেরণা ও আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *