১৩ বছরের মেয়েকে গলা টিপে খুন করে আত্মঘাতী গৃহবধূ, ফ্ল্যাটে মিলল জোড়া দেহ!

বেঙ্গালুরুতে মা ও মেয়ের রহস্যমৃত্যু, ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা
বেঙ্গালুরুতে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে মা ও তেরো বছর বয়সী মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ কার্যত ধাঁধার সম্মুখীন হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বা মোটিভ স্পষ্ট নয়, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশি তদন্ত ও প্রাথমিক ধারণা
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, মা সুবর্ণা (৪০) সম্ভবত তাঁর মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে এটি শুধুমাত্র একটি প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশ ফ্ল্যাট থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন নমুনার ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা ঘটনার নেপথ্যের মোটিভ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
পরিবারের বিপরীতমুখী অভিযোগ
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহ বা সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই দুইটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে:
- সুবর্ণার স্বামী চন্দ্রশেখর একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী সুবর্ণাই তাদের মেয়েকে হত্যা করেছেন এবং পরে নিজেও প্রাণ হারিয়েছেন।
- অন্যদিকে, সুবর্ণার দাদা মঞ্জুনাথ পরিস্থিতির ভিন্ন দাবি তুলে অপর একটি মামলা রুজু করেছেন। তাঁর অভিযোগের নিশানায় রয়েছেন স্বামী চন্দ্রশেখর। তিনি এই দুই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
দুই পরিবারের পক্ষ থেকে দুই ধরনের অভিযোগ কার্যত তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট তথ্য গোপন করা হচ্ছে না। ফরেনসিক রিপোর্টের পাশাপাশি ঘটনার আগের দিনগুলোয় পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থা ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় জনমনে শোক ও রহস্যের ছায়া নেমে এসেছে।
এক ঝলকে
- ঘটনাস্থল: বেঙ্গালুরু।
- মৃত ব্যক্তিরা: সুবর্ণা (৪০) এবং তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে।
- পুলিশি অনুমান: প্রাথমিক তদন্তে মা ও মেয়ের খুন ও আত্মহত্যার তত্ত্ব উঠে আসছে।
- মামলা: স্বামীর অভিযোগ স্ত্রী মেয়েকে খুন করেছেন। অন্যদিকে, সুবর্ণার দাদা মৃত্যু নিয়ে স্বামী চন্দ্রশেখরের দিকে আঙুল তুলে ভিন্ন মামলা করেছেন।
- বর্তমান পরিস্থিতি: ফরেনসিক রিপোর্ট এবং তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ।
