জনতার রায় মানতে নারাজ মমতা, ২৭ দিন পরও ফের কারচুপির অভিযোগে সরব তৃণমূল সুপ্রিমো – এবেলা

জনতার রায় মানতে নারাজ মমতা, ২৭ দিন পরও ফের কারচুপির অভিযোগে সরব তৃণমূল সুপ্রিমো – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়ে যাওয়ার প্রায় এক মাস কাটতে চললেও এখনও পরাজয় স্বীকার করতে প্রস্তুত নন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে আসছিলেন। সোমবার বিকেলে কালীঘাটের বাসভবন থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি আবারও একই দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি বা তাঁর দল জনগণের রায়ে হারেনি, বরং ১৭৭টি আসনে কারচুপি করে জিতেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

ইতিমধ্যেই রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে বড়সড় বদল ঘটে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং নতুন সরকারের পরিচালনায় রাজ্যের একাধিক নীতিতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

টানা অনড় অবস্থান ও রিগিং তত্ত্ব

ভোটের ফল প্রকাশের দিন যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে রাজ্যের শাসনভার চলে যাচ্ছে, তখন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে তাঁকে চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে। সেই যুক্তি খাড়া করে তিনি নিজে থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফাও দেননি। ২৭ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও নিজের সেই অবস্থানে অনড় থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত কারচুপির অভিযোগ এনেছেন। ১৭৭টি নির্দিষ্ট আসনের জয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পরাজয়ের দায় নিতে অস্বীকার করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় মনোভাব এবং ক্রমাগত কারচুপির অভিযোগের পেছনে গভীর রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে। প্রথমত, এই তত্ত্বের মাধ্যমে তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, যাতে তারা হীনমন্যতায় না ভোগেন। দ্বিতীয়ত, নতুন বিজেপি সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনগণের মনে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন জিইয়ে রাখা এবং ভবিষ্যৎ আইনি বা আন্দোলনমুখী লড়াইয়ের জমি প্রস্তুত করাই এর মূল লক্ষ্য। তবে এই ধারাবাহিক বিরোধিতার ফলে রাজ্যে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যা প্রশাসনিক কাজেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *