বহিষ্কৃত হতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ঋতব্রত, তদন্ত চেয়ে বিজেপি সরকারকে চিঠির হুঁশিয়ারি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সই জাল কাণ্ডে তৃণমূলের জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার জেরে তৈরি হওয়া অস্বস্তি ঢাকতেই তাঁকে এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই পালটা সুর চড়িয়েছেন ঋতব্রত। সরকারে থাকাকালীন ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে দাবি করে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের কাছে তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি।
পুরসভায় ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রাণের ভয়
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন বিপুল দুর্নীতি হয়েছে এবং তাঁর কাছে এর বহু তথ্য রয়েছে। তাঁর দাবি, উলুবেড়িয়া পুরসভায় ১০ হাজার ঘর চুরি হয়েছে এবং কোনো টেন্ডার ছাড়াই কাজ করা হয়েছে। এতদিন কেন মুখ খোলেননি, সেই প্রসঙ্গে বিধায়ক স্পষ্ট জানান যে তখন তাঁর প্রাণের ভয় ছিল। তৃণমূল এখন আর ক্ষমতায় নেই বলেই তিনি এই সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে আনার সাহস পাচ্ছেন। এই দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে খুব শীঘ্রই তিনি রাজ্যের নতুন সরকারকে চিঠি লিখবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পদ না ছেড়েই লড়াইয়ের বার্তা
দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও এখনই বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না ঋতব্রত। উলুবেড়িয়ার সাধারণ মানুষের স্বার্থে তিনি কাজ করে যাবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে খোদ তাঁর নিজের দলই তাঁকে হারানোর চেষ্টা করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বহিষ্কার এবং ঋতব্রতের পালটা বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মোড় নিতে চলেছে। একদিকে সই জাল কাণ্ডে তৃণমূলের অস্বস্তি যেমন বাড়ল, অন্যদিকে নতুন সরকারের কাছে তদন্তের দাবিতে জোড়া বিধায়ক বহিষ্কারের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
