ব্যাঙ্ক গ্রাহক ও নমিনি উভয়ের মৃত্যুতে টাকা কার? জেনে নিন আরবিআই-এর বিশেষ নির্দেশিকা – এবেলা

ব্যাঙ্ক গ্রাহক ও নমিনি উভয়ের মৃত্যুতে টাকা কার? জেনে নিন আরবিআই-এর বিশেষ নির্দেশিকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থের সুরক্ষায় নমিনি বা মনোনীত ব্যক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যেখানে অ্যাকাউন্টধারী এবং তাঁর মনোনীত ব্যক্তি উভয়েই মারা যান। এমন জটিল পরিস্থিতিতে আমানতের প্রকৃত উত্তরাধিকারী কে হবেন এবং টাকা পাওয়ার আইনি পদ্ধতি কী, সে বিষয়ে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) ও দেশের প্রচলিত আইন অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

উত্তরাধিকার বনাম মনোনীত ব্যক্তির অধিকার

আইন অনুযায়ী, নমিনি বা মনোনীত ব্যক্তি কখনোই অর্থের চূড়ান্ত মালিক নন, বরং তিনি একজন ‘ট্রাস্টি’ বা তত্ত্বাবধায়ক মাত্র। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় অনুযায়ী, মনোনীত ব্যক্তির কাজ হলো মৃত ব্যক্তির আমানত সংগ্রহ করে প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া। যদি অ্যাকাউন্টধারী ও মনোনীত ব্যক্তি উভয়েই মারা যান, তবে সেই অর্থ সরাসরি মৃত ব্যক্তির আইনসম্মত উত্তরাধিকারীদের (Legal Heirs) প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি যদি কোনো ‘উইল’ বা উইলনামা রেখে যান, তবে সেই অনুযায়ী বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। উইল না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধর্মীয় উত্তরাধিকার আইন (যেমন হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬) অনুযায়ী উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করা হয়।

দাবি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

উত্তরাধিকারীদের এই অর্থ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আবেদন করতে হয়। এর জন্য মৃত ব্যক্তির মৃত্যু শংসাপত্র (Death Certificate), আবেদনকারীর পরিচয়পত্র এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ‘উত্তরাধিকার শংসাপত্র’ বা ‘সাকসেশন সার্টিফিকেট’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যৌথ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে অবশ্য নিয়মটি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে একজন অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হলে জীবিত সদস্য অ্যাকাউন্টটি পরিচালনার পূর্ণ অধিকার পান। তবে একক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে আইনি উত্তরাধিকার প্রমাণ করা অত্যন্ত জরুরি।

দাবিহীন অর্থ ও আরবিআই-এর সতর্কতা

যদি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অ্যাকাউন্টে উত্তরাধিকারীরা দাবি না জানান, তবে ১০ বছর পর সেই অর্থ আরবিআই-এর ‘ডিপোজিটর এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস ফান্ড’ (DEAF)-এ চলে যায়। তবে এই পর্যায়েও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দাখিল করে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব। গ্রাহকদের হয়রানি কমাতে এবং সঠিক ব্যক্তির হাতে টাকা পৌঁছে দিতে আরবিআই সমস্ত ব্যাঙ্ককে দাবি প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, নিয়মিতভাবে নমিনির তথ্য হালনাগাদ করা এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে রাখা।

এক ঝলকে

  • অ্যাকাউন্টধারী ও নমিনি উভয়ের মৃত্যুতে আইনসম্মত উত্তরাধিকারীরাই জমানো টাকা পাবেন।
  • নমিনি কেবল একজন তত্ত্বাবধায়ক, তিনি সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিক বা উত্তরাধিকারী নন।
  • টাকা দাবি করার জন্য সাকসেশন সার্টিফিকেট ও ডেথ সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক।
  • দীর্ঘ ১০ বছর দাবিহীন থাকলে টাকা আরবিআই-এর বিশেষ ফান্ডে জমা হয়, যা পরে দাবি করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *