ভরাডুবির ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তৃণমূল, রাজপথে নামছেন মমতা ও অভিষেক – এবেলা

ভরাডুবির ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তৃণমূল, রাজপথে নামছেন মমতা ও অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনে আকস্মিক পরাজয় এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্ষমতার অবসরের পর সাংগঠনিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ভেতরে বাড়তে থাকা তীব্র অসন্তোষ আর একের পর এক নেতার দলবদলের জল্পনার মধ্যেই এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামছে ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং বিপর্যস্ত কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে আন্দোলনের চেনা পথেই ফিরছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পাশে অভিষেক, ধর্মতলায় ধরনায় মমতা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে শনিবার থেকেই সরাসরি মাঠে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দফায় তিনি বেলেঘাটা এবং সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় যাবেন। এরপর আগামী ২ জুন তাঁর বীরভূম সফরের কথা রয়েছে। ঠিক একই দিনে কলকাতার ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে ধরনা-অবস্থানে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজয় এবং কালীঘাটের অন্দরে দফায় দফায় বৈঠকের পর, কবিতার খাতা ছেড়ে মমতার এই রাজপথে ফেরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে কলকাতা পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেবে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি।

ভেতরে-বাইরে চতুর্মুখী চাপ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই আন্দোলনের মূল কারণ কেবল ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নয়, বরং দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন সংকট। নির্বাচনের পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে ডায়মন্ড হারবারসহ বিভিন্ন পুরসভায় কাউন্সিলরদের পদত্যাগের হিড়িক এবং বিধায়কদের একাংশের সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দফায় দফায় সাক্ষাৎ তৃণমূলের ভাঙন আরও ত্বরান্বিত করছে। এমনকি বিধানসভায় প্রয়োজনীয় নথির অভাবে এখনও বিরোধী দলের মর্যাদাও পায়নি তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ কর্মসূচি সফল না হলে তৃণমূলের ক্ষয়িষ্ণু সংগঠনকে ধরে রাখা কঠিন হবে। ২ জুনের এই আন্দোলন একদিকে যেমন কর্মীদের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে তেমনই নতুন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল। এই কর্মসূচির ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে রাজ্যে তৃণমূলের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে টিকে থাকার ভবিষ্যৎ সমীকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *