মিড ডে মিলে বাদ ডিম, বদলে পনির-সয়াবিন! ইসকনের নয়া মেনু নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্য বাজেটে প্রাথমিকের মিড ডে মিলে মাথাপিছু বরাদ্দ ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, কলকাতা পুর এলাকায় মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ইসকন (ISKCON)-কে। আর এখান থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ইসকনের মেনুতে বাদ পড়ছে ডিম, পেঁয়াজ ও রসুন। বদলে জায়গা করে নিচ্ছে সয়াবিন, রাজমা ও পনিরের মতো সম্পূর্ণ নিরামিষ পদ। এই ‘এগলেস’ মিড ডে মিল কি বয়ঃসন্ধির শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগাতে পারবে?
ডিম ছাড়া কি পুষ্টির ঘাটতি হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম না খেলে যে মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বিরাট ঘাটতি হবে, এমনটা নয়। পুষ্টির এই বিতর্ক নিয়ে পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- অনুশ্রী মিত্র (পুষ্টিবিদ): ডিমে উন্নত মানের অ্যামিনো অ্যাসিড, ফোলেট এবং কোলিন থাকে, যা শিশুদের ব্রেন ডেভেলপমেন্টের জন্য দারুণ কার্যকর। তবে ডিম না খেলে সয়াবিন খুব ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ এতে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। যদিও পনিরে ক্যালশিয়াম থাকলেও ফোলেট ও কোলিনের মাত্রা কম থাকে। তাই বিভিন্ন ধরনের ডাল ও সয়াবিনের মাধ্যমে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুষ্টির ঘাটতি মেটানো সম্ভব।
- ইন্দ্রাণী ঘোষ (পুষ্টিবিদ): প্রাণিজ প্রোটিন বা ডিমই যে প্রোটিনের একমাত্র উৎস, এমনটা নয়। ডাল, সয়াবিন, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার থেকেও পর্যাপ্ত প্রোটিন মেলে এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের অনেক উপকারিতাও রয়েছে। সপ্তাহে একদিন ডিম খাওয়ার চেয়ে রোজ দই বা ছানা খাওয়া শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঢের বেশি উপকারী।
- শিশির বিশ্বাস (প্রধান যোগ প্রশিক্ষক, আয়ুষ মন্ত্রক): আয়ুর্বেদ মতে খাবার সুস্বাদু এবং সুস্নিগ্ধ হওয়া জরুরি, যেটিতে ইসকন জোর দেয়। একটি ডিমের চেয়ে যদি উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়, তবে তাতে কোনও ক্ষতি নেই। খাবারের পরিচ্ছন্নতা ও মানই এখানে আসল বিষয়।
এক নজরে মিড ডে মিলের মেনু বদল
| বিষয় | বর্তমান প্রচলিত মেনু | ইসকনের নয়া মেনু |
| আমিষ/নিরামিষ | সপ্তাহে এক দিন ডিম (শুক্রবার) | সম্পূর্ণ নিরামিষ (পেঁয়াজ, রসুন সম্পূর্ণ বাদ) |
| প্রোটিনের উৎস | ডিম, সয়াবিন (২ দিন), ডাল | পনির, ছানা, রাজমা, সয়াবিন, নানা রকম ডাল |
| বিশেষ পদ | শনিবারে সাধারণ খিচুড়ি | প্রায় ২০ রকমের স্বাদ বদলের খিচুড়ি, পায়েস, হালুয়া |
কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, ডায়েটেশিয়ানদের পরামর্শ মেনেই এই নিরামিষ মেনু তৈরি করা হবে। এছাড়া শিক্ষকদের ফিডব্যাক নিয়ে শিশুদের পছন্দ-অপছন্দের ওপর ভিত্তি করে মেনুতে নিয়মিত বদল আনা হবে। ডিম বাদ গেলেও, খাবারের গুণগত মান, স্বাদ এবং পুষ্টিতে কোনও আপস করা হবে না বলেই দাবি সংস্থার।
