রাস্তায় বিকট শব্দ, নেই কোনো কাগজ! কেন এই মোটর ভ্যানের নাম হলো ‘লাদেন’? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার গ্রামীণ রাস্তায় প্রতিদিন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এক আজব ত্রিচক্রযান। নেই কোনো নম্বর প্লেট, নেই রুট পারমিট কিংবা রেজিস্ট্রেশন। তবুও তিন চাকার ভ্যানে ইঞ্জিন বসানো এই ‘দৈত্য’ একাই সামলাচ্ছে গ্রামবাংলার বড় অংশের পরিবহন ব্যবস্থা! স্থানীয় মানুষ কেউ একে ডাকেন ‘লাদেন’, কেউবা বলেন ‘লছিমন’। সুকুমার রায়ের ‘হাঁসজারু’র মতোই ব্যাকরণহীন এই যান এখন মুর্শিদাবাদের ছোট-বড় রাস্তায় রাজত্ব করছে।
কেন এমন আজব নাম? সরকারি নথিতে ‘লাদেন’ নামের কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে স্থানীয় গ্যারেজ মালিক ও ইতিহাসবিদদের মতে, ২০০১ সালে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা টুইন টাওয়ার হামলার পর থেকেই এই নামটি প্রচলিত হয়। কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী ওসামা বিন লাদেনের মতোই এই গাড়ির বিশাল চেহারা, বিকট শব্দ এবং বেপরোয়া চালচলন দেখে স্থানীয় মানুষ রসিকতা করেই হয়তো এই নামকরণ করেছিলেন।
একাই একশো: অল-ইন-ওয়ান গাড়ি ডোমকল, রানিনগর, জলঙ্গি কিংবা হরিহরপাড়া— যেখানে বাস বা ট্রেকার নিয়মিত পৌঁছায় না, সেখানেই স্থানীয় মানুষের এক মাত্র ভরসা এই লাদেন ভ্যান। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো এর বহুমুখী ব্যবহার:
- যাত্রীবাহী বাস: সামনে নির্দিষ্ট রুটের নাম লিখে যাত্রী পরিবহন।
- স্কুল গাড়ি: সকালে খুদে পড়ুয়াদের নিয়ে পুলকার হিসেবে ছোটেন চালকরা।
- অ্যাম্বুলেন্স: জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো।
- মালগাড়ি: হাটের দিনে কম খরচে ভারী পণ্য বহনের প্রধান মাধ্যম।
জনপ্রিয়তার উল্টো পিঠে বড় বিপদ প্রয়োজন মেটালেও এই ভ্যান এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। কোনো সুরক্ষাবিধি না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ও ভারী পণ্য বহনের ফলে প্রায়ই ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। সম্প্রতি নদিয়ার রায়নগরের বাসিন্দা গোপীনাথ মণ্ডল এই লছিমনের ধাক্কাতেই নিজের একটি পা হারিয়েছেন। বেআইনি এই দাপটের কারণে নিয়মিত বাসের ব্যবসাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ বাস মালিকদের।
কবে হবে ‘অপারেশন লাদেন’? কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসন কিছুদিনের জন্য ধরপাকড় শুরু করে, কিন্তু কিছুদিন পরেই পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্য ও জাতীয় সড়কে বেআইনি মোটর ভ্যান ও টোটো চলাচল বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চালকদের বৈধ সরকারি লাইসেন্স ও দূষণমুক্ত যানবাহনের নিয়ম মানার জন্য ৩ মাসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকা যেমন বিশ্বমঞ্চ থেকে কুখ্যাত লাদেনকে খতম করেছিল, তেমনই মুর্শিদাবাদ-নদিয়ার বুক থেকেও কি চিরতরে বিদায় নেবে এই বিপজ্জনক ‘লাদেন’ ভ্যান? এখন সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।
