শুধুই কি ভূরিভোজ আর উপহার? জানুন বাঙালির সাধের ‘জামাই ষষ্ঠী’র আসল তাৎপর্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ও আনন্দমুখর উৎসব হলো জামাই ষষ্ঠী। শুধুই কি পাত পেড়ে ভূরিভোজ আর দেদার উপহার? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আসল তাৎপর্য।
কবে পালিত হয়?
প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়। পঞ্জিকা মতে, এবছর আজ, অর্থাৎ ২০ জুন (শনিবার) ঘরে ঘরে সগৌরবে পালিত হচ্ছে বাঙালির সাধের জামাই ষষ্ঠী।
নামকরণের কারণ ও তাৎপর্য
‘জামাই ষষ্ঠী’ শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এর আসল অর্থ। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে মেয়ের স্বামীকে (জামাই) বিশেষ আদর-আপ্যায়ন করার জন্যই এই নামকরণ। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতিতে দুই পরিবারের মধ্যে মেলবন্ধন এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভিতকে আরও মজবুত করার এক বিশেষ সামাজিক উৎসব।
কীভাবে পালিত হয় এই দিনটি?
এই বিশেষ দিনে শাশুড়িরা তাঁদের মেয়ে ও জামাইকে নিজেদের বাড়িতে সস্নেহে আমন্ত্রণ জানান। প্রথা অনুযায়ী, ধান-দুর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করে, কপালে তিলক পরিয়ে এবং হাতে হলুদ সুতো বেঁধে জামাইকে বরণ করে নেওয়া হয়। সঙ্গে চলে আরতি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো— মেয়ে ও জামাইয়ের দীর্ঘায়ু, সুখ এবং সমৃদ্ধি কামনা করা।
উপহার ও রসনাতৃপ্তি
বাঙালির উৎসব আর খাওয়া-দাওয়া হবে না, তা কি হয়! এই দিন জামাইয়ের পাত ভরে ওঠে রকমারি সুস্বাদু পদ, মিষ্টি এবং মরসুমি ফলে। বহু পরিবারে নিয়ম অনুযায়ী জামাইকে অন্তত ছ’রকমের ফল এবং একাধিক বিশেষ পদ পরিবেশন করার রেওয়াজ রয়েছে।
পাশাপাশি, পারস্পরিক স্নেহ ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে জামাই ও মেয়েকে নতুন পোশাক, গয়না এবং অন্যান্য উপহার দিয়ে আশীর্বাদ করার প্রথাও এই দিনটিকে আরও আনন্দমুখর করে তোলে। সব মিলিয়ে, শাশুড়ি ও জামাইয়ের মধুর সম্পর্কের এক অনন্য উদযাপন হলো এই জামাই ষষ্ঠী।
