১৫ জন তালিবানের মাঝে একা ভারতীয় তরুণী, আফগানিস্তান ঘুরে এসে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সারের – এবেলা

১৫ জন তালিবানের মাঝে একা ভারতীয় তরুণী, আফগানিস্তান ঘুরে এসে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সারের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৬ লক্ষ ফলোয়ার থাকা ভারতীয় ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার অঙ্কিতা কুমার ওরফে ‘মাঙ্কি আইএনসি’ সম্প্রতি আফগানিস্তানে ১৩ দিনের একটি সোলো ট্রিপ বা একাকী ভ্রমণ শেষ করেছেন। তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে নারীদের ওপর চরম বিধিনিষেধের আবহে একজন বিদেশি তরুণীর এই সফর এবং সেখানকার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নজর কেড়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক ১৩ দিন আগে আকস্মিকভাবেই তিনি এই রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ সফরে রওনা হন।

কঠোর লিঙ্গবৈষম্য ও অদ্ভুত সামাজিক নিয়ম

আফগানিস্তানে সাধারণ নারীদের দৈনন্দিন জীবনের করুণ বাস্তবতা অঙ্কিতার অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে। সেখানে রেস্তরাঁয় নারীদের জন্য আলাদা পর্দা ঢাকা অংশ রয়েছে এবং পুরুষদের জন্য বরাদ্দ অংশে মহিলাদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি বিখ্যাত ‘বন্দ-এ-আমির’ পর্যটন কেন্দ্রে সকাল ৮টার পর নারীদের প্রবেশের কোনো অধিকার নেই। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, সেখানে নারীদের গাড়ির সামনের আসনে বসার অনুমতি নেই। কোনো পুরুষ গাড়ি চালালে মহিলারা সাধারণ আসনে বসার সুযোগ পান না, বরং ট্রাঙ্কের ডালা খোলা রেখে পেছনের অংশে বসতে বাধ্য করা হয়। ছ’টার পর মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে সেখানকার সাধারণ মানুষ এই সমস্ত বৈষম্যকে নিয়তি হিসেবেই মেনে নিয়েছেন।

ভয়াল পরিস্থিতির মাঝে আশ্চর্য আতিথেয়তা

নারী স্বাধীনতার চরম বিরোধী হিসেবে পরিচিত তালিবান যোদ্ধাদের সঙ্গে অঙ্কিতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অবাস্তব। সফরের এক পর্যায়ে প্রায় ১৫ জন সশস্ত্র তালিবান যোদ্ধার মাঝে তিনি একা নারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কোনো প্রকার নির্যাতনের শিকার হওয়া তো দূর অস্ত, উল্টো তালিবানরা তাঁকে চা বানিয়ে খাওয়ায়। একটি গাছের নিচে বসে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিশ্ব রাজনীতি, যুদ্ধ এবং ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়।

বিদেশি ও স্থানীয়দের প্রতি দ্বিচারিতা

এই সফরের পর সংশ্লিষ্ট মহলে তালিবানদের মানসিকতা ও নীতি নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অঙ্কিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁর এই নির্বিঘ্ন সফরের একমাত্র কারণ ছিল তাঁর ‘বিদেশি’ পরিচয়। একজন বিদেশি পর্যটক হিসেবে তিনি যে খাতির বা আতিথেয়তা পেয়েছেন, তা স্থানীয় আফগান নারীদের ভাগ্যে জোটে না। স্থানীয় নারীদের প্রতি তালিবানদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচরণ এখনও অত্যন্ত নির্দয় ও দমনমূলক। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে বা পর্যটনের প্রসারে তালিবানরা বিদেশিদের প্রতি নমনীয়তা দেখালেও, দেশের অভ্যন্তরে নারী স্বাধীনতার পরিস্থিতি এখনও অন্ধকারাচ্ছন্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *