৯/১১-র কায়দায় বিমান হামলার রোমহর্ষক ছক! শেষ মুহূর্তে কেন পিছিয়ে যান ওমানি কো-পাইলট? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ফ্লাইদুবাই’-এর FZ1073 ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া রক্ত হিম করা ঘটনাটি কোনো আচমকা উন্মাদনা ছিল না—ছিল এক অতি-পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার সন্ত্রাসী চক্রান্ত। তদন্তে উঠে এসেছে, ওমানের কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি গত জুলাই মাসেই আমেরিকার ৯/১১-র ধাঁচে ইজরায়েলে বিমান হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনকি তার জন্য বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় রেইকিও সেরে ফেলেছিলেন তিনি।
পরিচিত সহকর্মীকে বাঁচাতেই জুলাইয়ের মিশন স্থগিত
আন্তর্জাতিক তদন্তসূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসেই ইজরায়েলগামী একটি ফ্লাইটে চেপে বসেছিলেন হামাম। লক্ষ্য ছিল বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়ে সেটিকে আছড়ে ফেলা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন। কারণ, ওই বিমানে তাঁর পরিচিত এক কেবিন ক্রু সদস্য ডিউটিতে ছিলেন। পরিচিত সহকর্মীকে রক্ষা করতেই সেবার পিছিয়ে আসেন এই ওমানি কো-পাইলট।
রেইকি এবং নিখুঁত চক্রান্ত
জুলাইয়ের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও থামেনি হামামের সন্ত্রাসী মানসিকতা। আল-কায়দা মতাদর্শে অনুপ্রাণিত এই কো-পাইলট ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই এমন ঘটনার কথা ভাবছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন, ইজরায়েল সফরের সুযোগে তেল আবিব ও বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর নিয়ে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর অথবা তেল আবিবের কোনো বহুতল ভবনে বিমানটি আছড়ে ফেলা।
মাঝআকাশে রোমহর্ষক আক্রমণ ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ
৩০ সেপ্টেম্বর FZ1073 ফ্লাইটে সেই ভয়ানক চক্রান্ত বাস্তবায়নের চূড়ান্ত চেষ্টা করেন হামাম। বিমান যখন মাঝআকাশে, তখন হঠাৎই কুড়াল নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর হামলা চালান তিনি। কিন্তু ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিতের অসাধারণ সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের মুখে ভেস্তে যায় কো-পাইলটের উদ্দেশ্য। পরবর্তীতে সতর্ক যাত্রী ও বাকি ক্রু সদস্যদের যৌথ তৎপরতায় কাবু করা হয় অভিযুক্ত হামামকে এবং রক্ষা পায় বিমানটি।
বর্তমানে ইজরায়েলি ও আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থাগুলি অভিযুক্ত কো-পাইলটের আল-কায়েদা সংযোগ ও মূল ইন্ধনদাতাদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
