বাংলার গ্রামীণ উন্নয়নে কেন্দ্রের ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর! – এবেলা

বাংলার গ্রামীণ উন্নয়নে কেন্দ্রের ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলার প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিলের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই ঐতিহাসিক চুক্তি বা মউ স্বাক্ষরিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র সরাসরি রাজ্যকে ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে চলেছে। মূলত গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জনমুখী প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এই বিশাল অঙ্কের তহবিল অনুমোদিত হয়েছে।

জলকষ্ট দূরীকরণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামগুলির প্রতিটি ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো রাজ্যের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলিতে দীর্ঘদিনের পানীয় জলের তীব্র সংকট মেটানো। এর সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, কারণ পরিশ্রুত পানীয় জলের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষকে জলবাহিত মারাত্মক রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করবে এবং গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।

গঙ্গা দূষণ রোধ এবং জল সংরক্ষণ

বৈঠকে ‘জল জীবন মিশন’-এর পাশাপাশি ‘নমামি গঙ্গে’ এবং ‘জলশক্তি অভিযান’ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা ও পরিকল্পনা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে গঙ্গার ঘাটগুলির সংস্কার, বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নদীর পাড় বরাবর সবুজায়নে জোর দেবে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় জলাশয় পুনরুজ্জীবিত করা এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের জলবায়ু রক্ষা ও জল সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা পালন করবে।

প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়ন এবং বরাদ্দকৃত ৩৯ হাজার কোটি টাকার স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা স্তরে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। রাজ্য সরকার এই অভিযানে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলিকেও সরাসরি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে প্রতি সপ্তাহে কাজের গতি পর্যালোচনা করে তৃণমূল স্তরে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত এই প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দেওয়া যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *