বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বড় রদবদল তৃণমূলের পরিষদীয় দলে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের ১৮তম বিধানসভায় পরিষদীয় লড়াইয়ের রণকৌশল সাজাতে বড়সড় রদবদল ঘটাল তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার (Leader of Opposition) গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এই রদবদল ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ৯ মে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন পরিষদীয় টিমের নাম ঘোষণা করা হয়।
অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের ভারসাম্য
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ রাজনীতিককে সামনে রেখে পরিষদীয় দলে অভিজ্ঞতার মিশেল ঘটিয়েছে তৃণমূল। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিতে ডেপুটি লিডার অব অপজিশন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে দুই অভিজ্ঞ নেত্রী অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, বিধানসভায় দলের শৃঙ্খলা ও রাশ শক্ত হাতে ধরতে চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। নতুন এই পদাধিকারীদের আগামী দিনের সাফল্যের জন্য তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
কৌশলী রদবদলের নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৮তম বিধানসভার অধিবেশনে বিরোধী পক্ষকে মোকাবিলা করতে এবং পরিষদীয় লড়াইয়ে আরও বেশি আক্রমণাত্মক অথচ সংযত ভূমিকা পালন করতেই এই সুপরিকল্পিত রদবদল ঘটিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সংসদীয় রীতিনীতি সংক্রান্ত অগাধ জ্ঞান এবং ফিরহাদ হাকিমের প্রশাসনিক দক্ষতা সম্মিলিতভাবে বিধানসভার অন্দরে দলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। মূলত মানুষের স্বার্থে আরও দায়বদ্ধ থেকে কাজ করা এবং বিধানসভার বিতর্কে গঠনমূলক ভূমিকা রাখাই এই নতুন টিম গঠনের প্রধান লক্ষ্য। এই রদবদলের ফলে আগামী দিনগুলোতে পরিষদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের কৌশল ও সক্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
