মাঠের লড়াইয়ের আগেই ফরাসি শিবিরে এমবাপের ‘বিপ্লব’, ক্ষুব্ধ প্লাতিনি ও প্রাক্তনরা – এবেলা

মাঠের লড়াইয়ের আগেই ফরাসি শিবিরে এমবাপের ‘বিপ্লব’, ক্ষুব্ধ প্লাতিনি ও প্রাক্তনরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আমেরিকার বোস্টনে যখন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে ফ্রান্স দল, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের একাধিক বিতর্কে উত্তপ্ত ফরাসি শিবির। ফুটবলারদের ইমেজ রাইটস বা ছবির স্বত্ব এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের একের পর এক সিদ্ধান্ত দলের অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্বকাপ অভিযানের মুখে দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ফুটবলারদের মনোযোগ নষ্ট হওয়া নিয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত।

বিজ্ঞাপনী যুদ্ধ ও রাজনৈতিক ককটেল

বিতর্কের সূত্রপাত ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের অনুমোদিত একটি বেটিং সংস্থার বিজ্ঞাপনী প্রচারকে কেন্দ্র করে। ফুটবলারদের আগাম অনুমতি না নিয়ে ছবি ব্যবহার করায় তীব্র আপত্তি জানান অধিনায়ক এমবাপে। জুয়া বা ফাস্ট ফুডের বিজ্ঞাপনে নিজের ও দলের সতীর্থদের মুখ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এই কর্পোরেট যুদ্ধের পাশাপাশি ফরাসি ড্রেসিংরুমে আছড়ে পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও। ফ্রান্সে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে উগ্র-ডানপন্থীদের উত্থানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দেগেছেন এমবাপে। দেশবাসীকে চরমপন্থার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফুটবল ও রাজনীতির চিরন্তন ককটেলকে আরও উসকে দিয়েছেন এই ফরাসি সুপারস্টার।

প্রাক্তনদের সমালোচনা ও কোচ দেশঁর ঢাল

বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ফুটবলারদের এমন রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এমবাপের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনিসহ একাধিক প্রাক্তন ফুটবলার। প্লাতিনির মতে, দেশের অধিনায়কের সবসময় নিরপেক্ষ থাকা উচিত এবং বিশ্বকাপের আগে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে এমন প্রচার অনভিপ্রেত। অবশ্য কোচ দিদিয়ের দেশঁ তাঁর প্রিয় ছাত্রের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এর ফলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এখন ট্যাকটিক্সের চেয়ে উগ্র-ডানপন্থা ও মাঠের বাইরের বিতর্ক নিয়েই বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে ফরাসি কোচকে।

ফর্মের ঘাটতি ও মনোযোগ নিয়ে সংশয়

এই বিতর্কের মাঝেই বড় ধাক্কা দিয়েছে এমবাপের সাম্প্রতিক অফ-ফর্ম এবং গা-ছাড়া মনোভাব। প্রস্তুতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হার কিংবা উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ছন্নছাড়া জয় ফরাসি ফুটবলপ্রেমীরা ভালো চোখে দেখছেন না। এর ওপর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ছেড়ে হুট করে ব্যক্তিগত কারণে এমবাপের রিয়াল মাদ্রিদে উড়ে যাওয়া এবং ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। দলের বাকিরা যখন কঠোর পরিশ্রম করছেন, তখন এমবাপের মন আদৌ বিশ্বকাপে আছে নাকি মাদ্রিদের নতুন ঠিকানায়, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি এটিই কোচ দেশঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে—এমন গুঞ্জন ফ্রান্সের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা অতীতেও ফরাসি দলের ভরাডুবির কারণ হয়েছে, ফলে আমেরিকার মাটিতে এবারও তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটে কি না, সেই আশঙ্কায় দিন গুনছেন সমর্থকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *