বামেদের ডাক মমতার, রবীন্দ্রনাথের কবিতা টেনে বিদ্রুপমাখা জবাব সেলিমের!

বামেদের ডাক মমতার, রবীন্দ্রনাথের কবিতা টেনে বিদ্রুপমাখা জবাব সেলিমের!

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পটপরিবর্তনের পর বিরোধী শিবিরের সমীকরণ এবার এক নতুন মোড় নিল। শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীর আবহে বিজেপিকে রুখতে বাম এবং অতিবাম দলগুলোকে একজোট হওয়ার খোলাখুলি ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির মোকাবিলা করতে হলে সমস্ত জাতীয় এবং আঞ্চলিক শক্তিকে ব্যক্তিগত বিরোধ সরিয়ে এক মঞ্চে আসতে হবে। মমতার এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে, যেখানে এক সময়ের ঘোরতর বিরোধীদের দিকেই এখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চাইছেন তিনি।

রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় মমতার নজিরবিহীন জোট-বার্তা

তৃণমূল নেত্রীর এই আহ্বানের প্রধান কারণ হলো সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয় এবং বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “বাম, অতিবাম, যে কোনও জাতীয় দল, যে যেখানে আছেন, আসুন আমরা জোট বাঁধি। আমাদের প্রথম শত্রু বিজেপি।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একলা চলার নীতি ছেড়ে বামেদের এই ডাক আসলে তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়েরই একটি কৌশল। একক শক্তিতে বিজেপিকে আটকানো যে এই মুহূর্তে কঠিন, মমতার এই মন্তব্যেই তা পরোক্ষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের কবিতায় সেলিমের শাণিত আক্রমণ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তা যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক। কোনো দীর্ঘ রাজনৈতিক তর্জায় না গিয়ে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উদ্ধৃত করে বলেন, “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো।” সেলিমের এই কাব্যিক জবাবে আসলে তৃণমূলের বর্তমান ‘শুকিয়ে যাওয়া’ বা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়া অবস্থাকেই বিদ্রুপ করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সিপিএম নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিল যে, অতীতে তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হওয়া বাম কর্মীরা এত সহজে পুরনো শত্রুতা ভুলে জোটের রাস্তায় হাঁটতে নারাজ। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে বিরোধী ঐক্য গড়ার পথ আরও কণ্টকাকীর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *