২০০১ না ২০১১? অতীতকে ছাপিয়ে কেন অনন্য ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে যেকোনো নির্বাচনই কোনো না কোনো পুরনো প্রেক্ষাপটকে মনে করিয়ে দেয়। আজ, ৪ মে, গণনার প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে ২০২৬-এর এই মহারণকে নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ বলছেন এটি ২০০১-এর মতো ‘হাওয়ার নির্বাচন’, আবার কেউ দেখছেন ২০১১-এর মতো ‘পরিবর্তনের ছোঁয়া’। তবে সব তুলনা ছাপিয়ে ২০২৬-এর ভোট নিজের চরিত্রেই অনন্য।
কেন এই নির্বাচনের তুলনা ২০০১-এর সঙ্গে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ২০০১ সালে যেমন নবজাতক তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে রাজ্যে এক প্রবল হাওয়া তৈরি হয়েছিল, এবারও হয়তো তেমন কিছু ঘটতে পারে। সেই সময় সংগঠনের অভাব এবং কিছু কৌশলগত ভুলের কারণে তৃণমূল ক্ষমতায় আসতে পারেনি, বামফ্রন্ট ফের সরকার গড়েছিল। এবারের নির্বাচনে বিজেপির অনুকূলে বা প্রতিকূলে থাকা ‘হাওয়া’ শেষ পর্যন্ত আসন সংখ্যায় রূপান্তরিত হয় কি না, তা নিয়ে ২০০১-এর সেই অভিজ্ঞতাই বারবার উঠে আসছে।
২০১১-র সাথে কোথায় মিল?
অন্য একটি বড় অংশ মনে করছে, এবারের ভোটের প্রেক্ষাপট অনেকটা ২০১১-এর ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মতো।
- কড়া নিরাপত্তা: ২০১১-র মতোই এবারও নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন কড়াকড়ি করেছে। আড়াই লক্ষের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কড়া নজরদারিতে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছে।
- প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া: ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে যে ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ ফ্যাক্টর কাজ করেছিল, এবারও তার ছায়া দেখা যাচ্ছে।
- শান্তিপূর্ণ ভোট: দীর্ঘকাল পর বাংলা এমন এক ভোট দেখল যেখানে বড় কোনো হিংসা বা প্রাণহানির খবর নেই, যা ২০১১-র সেই স্মরণীয় ভোটকে মনে করায়।
২০২৬ কেন একেবারেই ভিন্ন ও অনন্য?
অতীতের সঙ্গে মিল থাকলেও কিছু নতুন ফ্যাক্টর ২০২৬-কে সব থেকে আলাদা করে রেখেছে:
- ঐতিহাসিক ভোটদান: দু-দফার নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৯৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা স্বাধীনতার পর বাংলায় নজিরবিহীন। এই বিপুল ভোট কার পক্ষে, তা এক বিরাট রহস্য।
- এসআইআর (SIR) ও প্রযুক্তি: এবারই প্রথম ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বা ‘স্থানান্তরিত’ ভোটারদের সরাতে বড় মাপের এসআইআর প্রক্রিয়া চলেছে। নির্বাচন কমিশন আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভোটদাতাদের শুদ্ধিকরণ করেছে।
- জনকল্যাণ বনাম অভিযোগ: একদিকে রয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনপ্রিয় ভাতা প্রকল্প, যা তৃণমূলের রক্ষাকবচ হতে পারে। অন্যদিকে রয়েছে দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ, যা বিজেপির প্রধান হাতিয়ার।
উপসংহার:
২০০১-এর উদ্দীপনা নাকি ২০১১-র পালাবদল— শেষ হাসি কে হাসবেন? কিছুক্ষণ পরেই ইভিএম খুললে স্পষ্ট হবে বাংলার জনতা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ ভরসা রেখেছে নাকি ‘পরিবর্তন’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। আপাতত রাজ্যব্যাপী যে নিঃস্তব্ধতা বিরাজ করছে, তা এক ঐতিহাসিক ঝড়ের পূর্বাভাস মাত্র।
